১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৪:২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ১২ কিলোমিটার বেরিবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৪

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক. ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট সদরের বিভিন্ন এলাকার ১২ কিলোমিটার বেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে ৩৫/১ ফোল্ডারের টেকসই বেড়িবাধের ২ কিলোমিটার ব্লক। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কারণে ব্লক ধ্বসে যাচ্ছে। গুরুত্বর ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধগুলো মেরামত শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্নিঝড়ে শরণখোলায় ৩৫/১ ফোল্ডারের টেকসই বেড়িবাধের ২ কিলোমিটার ব্লক সরে গেছে। মোরেলগঞ্জের শ্রেনিখালী এলাকায়ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নেয় গোপাল কাঠি এলাকার দুটি স্থানে। বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন জায়গায় মোট ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ বাধের পরিমান আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে বাঁধ ধ্বসে এবং উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিপুল পরিমান মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৫ লক্ষ মানুষ।

বুধবার দুপুরে গোপালকাঠি এলাকায় দেখা যায়, বেরিবাঁধটির কয়েকশ ফুট জায়গা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে ভৈরব নদীর গর্ভে। ওই স্থান থেকে কিছুদূর সামনে এগিয়ে আরও একটি জায়গায় আরও কয়েকশ ফুট বাঁধ বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে। এতে ওই এলাকার বিপুল সংখ্যক ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। প্লাবিত হয়েছে বিপুল পরিমান বাড়ি-ঘর। ওই এলাকার রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ঝড়ে যেমন ক্ষতি হয়েছে, বাঁধ ভেঙ্গে আরও বেশি বিপাকে পড়েছি আমরা। বাঢ়ি-ঘর সব জায়গা পানি উঠে গেছে। ঘেরের মাছ ভেসে গেছে সবার।

শরণখোলার গাবতলা, তাফালবাড়িসহ কয়েকটি এলাকায় ব্লক সরে সম্পূর্ণ বাধ ঝুকির মধ্যে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। গাবতলা এলাকার ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, মূলত যখন বাঁধটি নির্মান করা হয়, তখন মাটির পরিবর্তে বালু দেওয়া হযেছিল। এই বালু দেওয়ার কারণেই ব্লক সরে গেছে। এখনতো পুরো বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই এলাকার জাফর তালুকদার নামের এক ব্যক্তি বলেন, যখন বাঁধ হয়েছিল তখন খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখনতো মনে হচ্ছে, বাঁধ না হওয়াই ভাল ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোঃ আল বিরুনী বলেন, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন পোল্ডার ও উপ প্রকল্পে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওভার ফ্লোর কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। আমরা জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছি, যাতে জনবসতিতে আর পানি প্রবেশ করতে না পারে। শরণখোলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মান করা যে বাঁধ, ওই বাধের প্রায় ২ কিলোমিটার জায়গার ব্লক ধ্বসে গেছে। সেখানে আমার প্রাক্কালন করেছি, অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করতে পারব। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাইরে কিছু রিং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে অধীনে থাকা পোল্ডার ও বাঁধ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট রিং বেরিবাঁধ এবং গ্রাম্য সড়ক ধ্বসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যার ফলে স্থানীয়রা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বাঁধ ধ্বসের বিষয়ে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আসলে দূর্যোগপূর্ণ এলাকা। ঘূর্নিঝড় রিমালে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, নির্মান ত্রুটি থাকায় ওই বাধের ব্লক ধ্বসে গেছে। অতীতের অবিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় সঠিক পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।

  • শেয়ার করুন