১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ১১:৩২

ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামীলীগ নেতা নিহত

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৩

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল শেখ (৫৫)নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জুন) বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকায় ঘের থেকে ফেরার পথে পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে হামলার স্বীকার হন তিনি। পরে স্থানীয়রা আহত আনারুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত আনারুল শেখ বাগেরহাট পৌর শহরের বাসাবাটি এলাকার মৃত আব্দুল গনি শেখের ছেলে। তিনি বাগেরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই বাচ্চু শেখ বলেন, আমার সাথে ঘের নিয়ে কালাম বয়াতী নামের এক ব্যক্তির সাথে বিরোধ ছিল।  এই বিরোধে শনিবার সকালে কালামের আত্মীয় নাগেরবাজার এলাকার রশীদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার ও তার ভাই রাখা হাওলাদারের নেতৃত্বে ৭-৮জন আমাদের বাড়িতে এসে ঘেরে না যাওয়ার জন্য হুমকী দিয়ে যায়। দুপুরের দিকে বৈটপুর এলাকায় তার মৎস্য ঘেরে গিয়ে  দেখেন কালাম ঘের থেকে মাছ ধরছেন। কালামের কাছে মাছ ধরার কারণ জানতে চাইলে, কালাম খারাপ ব্যবহার করেন এবং সোহেলকে ফোন দিয়ে আসতে বলেন। অবস্থা খারাপ বুঝে আমি ঘের থেকে চলে চলে আসেন এবং তার ভাই আনারুল শেখকে ফোন করে ঘেরে যেতে বলি। বড় ভাই আনারুল শেখ রিকশা নিয়ে ঘেরে যায়। ঘেরে কাউকে না পেয়ে ঘের থেকে ফিরে আসতে থাকেন। আসার পথে মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে কালা সোহেল, রাখা ও গনেশসহ ৭-৮জন আমার ভাইকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে  বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিলে চিকৎসকরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।  সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনারুল শেখ মারা যায়।

আনারুল শেখে ছেলে জিসান শেখ বলেন, যারা আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠিন বিচার চাই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বাগেরহাট পৌরসভার ৮নং কাউন্সিলর মো. রেজাউর রহমান মন্টু  বলেন, একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। যারা এই হত্যার সাথে জড়িত, তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

 

  • শেয়ার করুন