২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৬:০৪

বাগেরহাটে রায়েন্দা-বড়মাছুয়া খেয়াঘাট ইজারাদারের লোকসানের শঙ্কা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৩

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে খেয়াঘাট ও ফেরিঘাট একই স্থানে হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন রায়েন্দা-বড়মাছুয়া খেয়াঘাটের ইজারাদার  আঃ সালাম হাওলাদার। এক বছরের ইজারা বাবাদ পরিশোধ করা ৬০ লক্ষ ৪৮ হাজার ১২০ টাকার অর্ধেকও আদায় হবে না বলে দাবি তার। লোকসানের পরিমান কমাতে ফেরিতে শুধুমাত্র জনসাধারণ পারাপার বন্ধ করার দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ইজারাদার সূত্রে জানাযায়, দরপত্রে অংশগ্রহনের খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বাংলা ১৪৩০ সালের (বৈশাখ থেকে চৈত্র মাস) ভ্যাট ও আয়করসহ ৬০ লক্ষ ৪৮ হাজার ১২০ টাকায় ইজারা নেয় ব্যবসায়ী আঃ সালাম হাওলাদার। কিন্তু গেল তিন মাস আগে রায়েন্দা-বড়মাছুয়া ফেরিঘাটটি মাত্র ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় ৩ বছরের জন্য ইজারা দেয় পিরোজপুর সড়ক বিভাগ। তাতেই বাঁধে বিপত্তি। ফেরির ইজারাদার নিজের ইচ্ছেমত ফেরি চালাতে থাকেন। ফেরিতে যানবাহন পরিবহন না করে, শুধুমাত্র জনসাধারণ নিয়ে ফেরি চালাতে থাকেন। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ফেরি না ছেড়ে, ফেরিতে চেয়ার বসিয়ে জনসাধারণ পাড় করছেন ফেরির ইজারাদার। যার ফলে খেয়াঘাটের ইজারাদার লোকসানের মুখে পড়ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আঃ সালাম হাওলাদার বলেন, এক বছরের জন্য ৬০ লক্ষ ৪৮ হাজার ১২০ টাকায় ইজারা নিয়েছি। কিন্তু এই টাকা কোনভাবে ওঠা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ৩ বছরের জন্য মাত্র ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফেরিঘাট ইজারাদার আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইচ্ছেমত ফেরি চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন মাত্র ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা টোল আদায় হয়। যে টাকায় খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছি সেই টাকা উঠতে হলে, প্রতিদিন অন্তত ২৫ হাজার টাকা টোল আদায় হওয়া প্রয়োজন। এতে শুধুমাত্র আমাদের মূল টাকা আয় হবে। তা না হলে, আমাদের অনেক লোকসান হবে। এই অবস্থায় ইজারার টোল কমানোর দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।

এদিকে খেয়াঘাট ইজারাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেরিঘাট ও খেয়াঘাট এলাকায় বিশৃঙ্খলা বন্ধে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সড়ক জনপথ বিভাগ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, রায়েন্দা ও বড়মাছুয়া ঘাটে একই জায়গায় ফেরি এবং খেয়া দুটোই সচল রয়েছে। দুটো থেকেই সাধারণ মানুষ সুবিধা ভোগ করছে। যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে থাকবে।  তবে ইজারাদারদের মধ্যে যদি কোন বিরোধ সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে বরিশাল ও খুলনা  দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

 

 

  • শেয়ার করুন