১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,দুপুর ১:৪২

মোংলা ইপিজেডে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৪

  • শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক. মোংলা ইপিজেডে ভিআইপি নামক একটি কোম্পানীর মালিকানাধীন ব্যাগ তৈরীর কারখানার প্রায় দেড় সহস্রাধিক শ্রমিককে ঈদের আগে হঠাৎ করে ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে ছাটাইয়ের প্রতিবাদ ও শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে সকাল ৯ টার পর থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ইপিজেডের গেট ও ভিআইপি ফ্যাক্টরী এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।
এ সময় বিক্ষুদ্ধ নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা ফ্যাক্টরী এলাকায় ঢিল ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের সাথে শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে লাঠি চার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, মোংলা ইপিজেডের অভ্যন্তরে লাগেজ (ব্যাগ) উৎপাদনকারী ভারতীয় কোম্পানীর মালিকানাধীন ‘ভিআইপি’ নামক প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক মাস ধরে লোকসান চলছিল।  এতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ এক বছর চাকরীরত ১৭৭৭ জন শ্রমিককে শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার সকাল ৯ টার দিকে ছাঁটাইকৃত এসব শ্রমিকদের চলতি মার্চ মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের বোনাসের টাকা দেয়া শুরু করলে শ্রমিকরা হট্রোগোল পাকাতে শুরু করে।
এ সময় শ্রমিকরা বাড়তি আরো তিন মাসের বেতন ও ঈদুল আযহার বোনাসের টাকা প্রদানের দাবিতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। শত শত নারী পুরুষ শ্রমিক ইপিজেডের প্রধান গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মারমুখি হয়ে ইপিজেডের গেটের ভিতরে কারখানা এলাকায় প্রবেশ করে ঢিল ও ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। শ্রমিকরা মারমুখী হয়ে এ সময় কারখানায় ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের সাথে শ্রমিকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশ বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করে বিকেল ৩ টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক ও ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মী কমবেশী আহত হয়েছেন।
মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
এদিকে ভিআইপি ফ্যাক্টরীর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, শ্রম আইন মেনে অগ্রিম বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তার পরও কিছু উশৃংখল শ্রমিক বিনা উস্কানীতে ফ্যাক্টরীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এ ব্যাপারে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।
  • শেয়ার করুন