২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,ভোর ৫:৩৭

মোরেলগঞ্জে মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাত, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৩

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভুয়া রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে জেলা পরিষদের বরাদ্ধের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাফাজ্জুল হোসাইন বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী।  অভিযোগের ভিত্তিতে  প্রকল্পের সভাপতি অহিদুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক অহিদুজ্জামানের  বেতন স্থগিত করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির  সদস্যরা হলেন, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বাকি বিল্লাহ,  সহকারি প্রকৌশলী শুভঙ্কর মন্ডল ও  সোহেল  রানা।

জানা গেছে, বারইখালী ইউনিয়নের মধ্য জোমাদ্দারপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দান উন্নয়ন, বারইখালী-সুতালড়ী জামে মসজিদ উন্নয়ন ও বিএসএস দাখিল মাদরাসার উন্নয়নের জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দা  পাওয়া যায়। ঐ টাকা উত্তোলনের জন্য  প্রকল্পে ও ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটিতেই মাদ্রাসা সুপার   অহিদুজ্জামান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাফাজ্জুল হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করে নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি জানানো হয়।

এমনকি বি এস এস দাখিল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকলেও তার নামের স্থলে ফখরুল ইসলামকে সভাপতি দেখানো হয়েছে।

জোমাদ্ধারপাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন,  আমাদের মসজিদ কমিটির কেউ জানেন না যে আমাদের  মসজিদের নামে দুই লাখ  টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত  ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. তাফাজ্জুল হোসাইন বলেন,  তিনটি  প্রকল্পের কোনোটাতেই আমি স্বাক্ষর করি নাই। যদি কেউ আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে  তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানাই।

এ বিষয়ে  মাদরাসার সুপার মো. অহিদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আজ মাদরাসার কাজে বাইরে আছেন বলে সহকারি সুপার মো. মাইনুদ্দিন হিরু জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও  মাদরাসার সভাপতি এসএম তারেক সুলতান বলেন, ৩টি প্রকল্পের নামে টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই, মাদরাসা সুপার অহিদুল জামান ও  সহকারি শিক্ষক মো. তাফাজ্জুল হোসাইন বেতন স্থগিত করা হয়েছে।একই সাথে পুরা বিষয়টি উদঘাটনের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে আমাদের কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। আসলে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব না যে কাগজপত্র গুলো ভুয়া কিনা কারণ তারা কাগজপত্রগুলো যথাযথভাবে তৈরি করে দিয়েছে। তারা যে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সেক্রেটারি না এটা আমরা তদন্ত করে দেখব। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

  • শেয়ার করুন