নিজস্ব প্রতিবেদক. সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ২১শের ছিলা-শাপলার বিল এালাকায় নতুন করে আগুন লেগেছে। রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে কলমতেজী টহল ফাঁড়ির এলাকার আগুন লাগা স্থান থেকে ড্রোণ উড়িয়ে নতুন এলাকায় ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা, কলমতেজি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ২১শের ছিলা-শাপলার বিল এলাকায় ছুটে আসেন। দুপুর একটা থেকে আগুন লাগে স্থানে ফায়ার কেনো তৈরি শুরু করেন তারা।এর আগে শনিবার সকালে কলমতেজী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বন বিভাগকে জানায়। দুপুর থেকে বন বিভাগ, সিপিজি, ভিটিআরটি, টাইগার টিমের শত শত লোকজন কাজ শুরু করে। বিকেলের মধ্যে ফায়ার লাইন কাটা শেষ করে বন বিভাগ। সন্ধ্যার আগে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেলেও পানি দিতে পারেনি। পানির উৎস্য দূরে হওয়াতে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।
শনিবার রাত ৯টা থেকে বন বিভাগের নিজস্ব পাম্প ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি দেওয়া শুরু করে। রাতভর চেষ্টায় আগুন নির্বাপনে সক্ষম হয় বন বিভাগ।
এদিকে, আগুন লাগার কারন অনুসন্ধানে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ধানসাগর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর দাস ও কলমতেজি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে আগুন লাগার কারন অনুসন্ধান ও বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন করে লাগা আগুনের ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা পৌঁছালেও, পানি ছিটানো শুরু করতে পারেনি। যেখানে আগুন লেগেছে সেখান থেকে পানি উৎস্য অর্থাৎ খালের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। এবং সুন্দরবনে অভ্যন্তরে তা খুবই দুর্গম হওয়া এবং গাছপালায় জড়ানো থাকার কারণে পানির সরবরাহের পাইপ টানতে খুবই বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও বনরক্ষীদের।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের উপ সহকারি পরিচালক (ডিএডি) সাকরিয়া হায়দার বলেন, বাগেরহাট, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ নিয়ে মোট পাঁচটি ইউনিট সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলা নদীর তীরে অবস্থান করছে। সব প্রক্রিয়া শেষে যত দ্রুত সম্ভব পানি সরবরাহ শুরু করা হবে।সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বনরক্ষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাতভর কাজ শেষে আমরা কলমতেজি এলাকার আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। তবে নতুন করে যে আগুন লেগেছে সেখানে আমাদের বনরক্ষীরা পৌঁছেছে। ফায়ার লাইন তৈরিতে কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব পাম্পের মাধ্যমে পানি ছিটানো হবে।
গত বছর ৪ মে চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া এলাকায় আগুন লাগে। তাতে বনের পাঁচ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২৬ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যার প্রায় সবগুলোই ভোলা নদী পার্শ্ববর্তী বনের উচু এলাকায়।